জিবনে আব্বার কাছে মাইর খাওয়ার ইতিহাস আমার খুবই দুর্বল, কালে ভদ্রে সর্বোচ্চ ২ বার ২ টা চড় খাইছি। এর মধ্যে প্রথমটার কারন আমার স্পষ্ট মনে আছে। তখন আমি পিচ্চি, বাসায় আমার চাচা বেড়াতে আসছে, মেহমান দেখলে আমি আবার বীর পুরুষ হয়ে যাইতাম, খাটে বসে আছি আমার পাশে মুড়ির ডিব্বা। কি যেন হইছিল রাগ দেখায়া মুড়ির ডিব্বায় দিলাম এক চড় , ডিব্বা খাট থেকে পরে গেল…… চাচার সামনে এমন বাহাদুরী দেখানোর পর আমার আব্বাও রাগের চোটে আমাকে দিল চড়। মুড়ির ডিব্বা যেমনে খাট থেকে পড়ছিল আমিও ঠিক অমনেই খাট থেকে পড়ে গেলাম। দীর্ঘদিন এই ব্যাপারটা নিয়ে বাপের সাথে রাগ করে কথা বলি নাই। খেলনা কিনে দিয়ে মুখে বুলি ফুটানো লাগছিল তখন। তবে চড়ের বেদনা গালের চেয়ে মনে গিয়ে বেশি লাগছিল। আমি পুরান কথা কখনো ভুলি না, এই দুঃখের কথাও ভুলি নাই, একদিন স্কুলে বিজ্ঞান ক্লাসে নিউটন কাকার সূত্র পড়ে বুঝতে পারলাম সেই দিন আমার আব্বা তার হাত দিয়ে যত জোড়ে আমার গালে বল প্রয়োগ করেছিল পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী আমার গালও ঠিক সমান ভাবে আমার আব্বার হাতে বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করছে । সমানে সমান …… কাটাকাটি । দুঃখ কমে গেল…… গালের ব্যাথার হিসাব বিজ্ঞান দিয়ে হলেও মনের ব্যাথার ব্যাপারটা… আসলে বিজ্ঞান দিয়ে বেড় করা যায় …না …
……… ” এটাই সাইন্স “………