তখন বড়ফুপু আর আমরা একসাথে যাত্রাবাড়িতে থাকতাম । বাসায় এক কাজের মেয়ে ছিল নাম ছিল বানু,
বানু ছিল বিদ্যানুরাগী কন্যা। লেখাপড়ার প্রতি তার ছিল অসীম আগ্রহ , সে আমার স্কুলের আধা শেষ হওয়া খাতাগুলা তার জ্ঞান চর্চায় ব্যাবহার করত, কাজে কর্মে কিঞ্চিৎ ফাকিবাজ ছিল সে , ছাদে গেলে অজ্ঞাত কারনে আধাঘন্টার আগে সে ছাদ থেকে নামত না। পাশের উঠানওয়ালা বাড়ির মালিকের ছেলে তুষারের ভক্ত ছিল সে , শীতের দিন জানালার পাশে বসে তাদের ব্যাডমিন্টন খেলা জাফর উল্লাহ শারাফাতের মত পর্যবেক্ষন করত। তখনও বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের নিয়ম চালু হয় নাই, এলাকার লোকজন রাস্তার মোরের ট্রান্সফরমারের পিলারের নিচে ময়লা ফেলত । বানুরও দুপুরের দিকে
ময়লা ফেলতে যাওয়া লাগত, সেখান থেকেও অজ্ঞাত কারনে ২০ মিনিটের আগে তাকে বাসায় ফেরত আসতে দেখা যাইত না ,পরে জানা গেছিল গলির
মাথায় পোলাপান ক্রিকেট খেলে, সেখানেও সে আতাহার আলী খানের মত খেলা পর্যবেক্ষন করত। অইখানের এক খেলোয়ার ছিল বাবুল নামে, সে বাবুলেরও ভক্ত ছিল , বেশ পড়ে তাকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হইছিল
( বাড়ি পাঠানোর কারন নীচে দেয়া আছে )।
এবার আসি আসল কথায়, আমরা শিক্ষাজীবনের শুরুতে বর্ণ শিখি তারপর কয়েকটি বর্ণ মিলে তৈরী করি শব্দ , কয়েকটি শব্দমিলে তৈরী করি বাক্য ।
তারপরই স্কুলের সিলেবাস অনুযায়ী গরু রচনা শিখি…… গরুর চার পা , ২ শিং , ২ চোখ এইসব লেখি । বানু ছিল প্রচলিত শিক্ষাধারার ব্যাতিক্রম
উদাহরন , সে বর্ন শব্দ বাক্য শিখার পর ডিরেক্ট বাবুলরে প্রেমপত্র লেইখা বসছিল। ফাইনালি কোন সমাপ্তি ঘটে নাই কাহিনীতে , আমি যদি বিখ্যাত
লেখক হইতাম তাহলে লাইলি-মজনু রোমিও-জুলিয়েটের মত বাংলাদেশি চরিত্র বানু-বাবলু লেখতাম। সেসময় আনফরচুনেটলি ফেসবুক ছিল না। থাকলে
হয়ত এঞ্জেল বানু আর হ্যাকার বয় বাবলুর ইন আ রিলেশনশিপের স্ট্যাটাসে গিয়া লাইক মাইরা আসতাম……