আমার খুব পরিচিত কোন এক মানুষ থেকে শুনেছিলাম , তাদের পাশের বাসার কাজ করা এক মহিলার কেউ ছিল না। সে যখন বয়স হওয়ার জন্য বাড়ি চলে যাচ্ছিল তখন নাকি এই বলে কাঁদছিল আমার তো  কেউ নাই জিবনে। আমি মরলে কবরের পাশে কাদবে এমন কেউ দুনিয়ায় নাই । জিবনের একটা পর্যায়ে এসে মানুষ হঠাৎ করে একা হয়ে যায়। হয়ত এই জিবনে খুব একটা সম্পদ খ্যাতি করে যেতে পারেনি । তাই ভদ্রমহিলার কেউ নেই।

একটি মানুষ খুব নীরবে নষ্ট হবার কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট ।
              ~ হেলাল হাফিজ

আগে কবিতা জিনিসটা আমাকে খুব একটা টানেনি , কবিতা বলতেই বুঝতাম ১০ লাইন মুখস্ত করা লাগবে পরিক্ষার খাতায় লেখা লাগবে আর নাম্বার আসবে। একটা সময় আসলো কবিতা বোঝা শুরু করলাম।লেখার হাত জঘণ্য বাজে হওয়ায় কবিতা আসেনি কখনো কলম দিয়ে । তবুও কারো জন্য লেখেছিলাম হয়ত এক দুইলাইন। লাইনগুলো এখন খেয়াল আসতেছে না।

কবি হেলাল হাফিজের নাম শুনেছিলাম, ইউটিউবে তার কবিতা আবৃতি শুনেছিলাম। জ্ঞানের স্বল্পতার কারনে আহামরি ভাল বুঝিনি আসলে। তবে দুইএকটা চরন বেশ লেগেছে। পত্রিকায় দেখলাম কবি অসুস্থ ,  দেখার কেউ নেই। বারডেম হাসপাতালের বারান্দায় থাকা কোন একজনকে ভাড়া করা হয়েছে কবির দেখভাল করার জন্য। বাংলাদেশের সেরা কবিদের একজন হচ্ছেন হেলাল হাফিজ। অগনিত ভক্তকূল , সম্মান বেশ কুরিয়েছেন হয়ত। অর্থসম্পদ সম্পর্কে ধারনা দিতে পারলাম না, উপরের মহিলা আর কবির ক্ষেত্রে কমন ব্যপারটা হচ্ছে কবিও এখানে একা তার দেখার কেউ নেই।  তাদের কষ্ট গুলো আলাদা, গল্প গুলো আলাদা, প্রতিটা মানুষের ক্ষেত্রেই সেইম। আলাদা গল্প আলাদা কষ্ট আলাদা সুখ। কিন্তু গন্তব্যের সুতো একবিন্দুতে এসেই মিলিত হয়।

এত কবি থাকতে হেলাল হাফিজ নিয়ে লেখলাম তার একটা কারন আছে। কোন একসময় কোন একমানুষকে লিখে পাঠিয়েছিলাম হেলাল হাফিজের কবিতার  দুই চরন

” কেউ ডাকেনি তবু এলাম, বলতে এলাম ভালোবাসি “