রাত ১০ঃ৩০
ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলো । পাশের বিল্ডিং এর ছাদে দুই মহিলা বসে গল্প করতেছে, তাদের জিবনে ছিনতাই এর ঘটনা, ক্রাইম পেট্রোলেও এত নিখুঁত বর্ননা পাওয়া যায় না। আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে তাদের জিবনে ঘটে যাওয়া রোমহর্ষক ঘটনা শুনতেছি।
রাত ১১ঃ৩০
পাশের বাসা থেকে জানানো হলো আমাদের বিল্ডিং এর চারতলা বাদে পুরো বিশ্বভ্রমান্ডের সকল স্থানে বিদ্যুত সরবরাহ হচ্ছে। প্রিপেইড মিটার থাকায় বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দেয়া হলো , তারা নিশি রাতে সার্ভিস দেয় না , এলাকার একটা দোকানদার ইলেক্ট্রিসিটির কাজ করে, তাকে ধরে নিয়ে আসা হলো । আমি আমার আব্বা আর পাশের বাসার আংকেল ৩ জন ওনার কাজ দেখতেছি।
রাত ১২ঃ৩০
রাস্তা পুরো খালি রাস্তা দিয়ে একা একা হাটতেছি , মসজিদের সামনের বসার স্থানে ৩ জন মুরুব্বি খালি গায়ে বসে আছে , সাথে একটা ছাগল , গলায় টুং টুং ঘন্টা ঝুলায়ে হাটতেছে। একটা কুকুর গভীর মনোযোগে ছাগলের ঘন্টা নাড়িয়ে হাটা দেখতেছে, আমিও দেখতেছি।
রাত ১ঃ১৮
লাইন ঠিক করার পরই বিল্ডিং থেকে বেড় হয়ে মেকানিক সাহেব এলাকার মসজিদের টয়লেটে ঢুকেছে ( হিসু করতে )
আমি , আমার আব্বা আর পাশের বাসার আংকেল রাস্তার পাশের বেওয়ারিশ এক ভ্যানের উপর বসে আছি। আকাশে অর্ধবৃত্তাকার চাঁদ , শরতের সুন্দর আকাশ চাদকে আরো সুন্দর করেছে। চাদের আলো আর ল্যাম্পপোস্টের এলইডি বাতি সমান ভাবেই সাদা আলোয় রাস্তা আলোকিত করে রেখেছে।
রাত ১ঃ২০
হঠাৎ কেন যেন মনটা খুব ভাল হয়ে গেল…… দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের জীবনে এই প্রথম বাপ ব্যাটা এত রাতে একসাথে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। চাদটা খুব সুন্দর । খুব…… খুব ……
রাত ১ঃ২২
অনুভুতি দীর্ঘস্থায়ী হলো না, মেকানিক ব্যাটা হিসু শেষ করে এসে আব্বুর কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলে গেল…বাপ ব্যাটার আর প্রতিবেশি আংকেল ৩ জন বাসার দিকে যাইতেছি। আমার কোন তাড়া নেই , তাদের বাসায় যাওয়ার অনেক তাড়া…… তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে কাজে যেতে হবে, টাকা উপার্যন করতে হবে , সেটা দিয়ে খাবার কিনতে হবে, চাঁদ দেখে পেট ভরে না। খাবার লাগে …… সুস্বাদু খাবার।
আমি তখনও মনে মনে বলছি ফাজিল মেকানিক …… বেশি করে পানি খাইলে হয়ত আর ২ মিনিট বসতে পারতাম ।