একটা সময় ঢাকা শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোয় বাবাকে বাজার থেকে মুরগি কিনে আনতে দেখলে ঈদ মনে হত। এই ঢাকা শহরেই একসময় মাংসের ঘ্রাণে ঘুম ভাঙার রেওয়াজ ছিলো। ছোটখাট নানান বিষয় তখন আমাদের আন্দোলিত করত। এখন পথেঘাটে এখানে সেখানে খাবার পরে থাকতে দেখা যায়। ভবঘুরে কুকুরগুলোও সেদিকে তাকায় না…
এমন একটা সময় ছিলো, দুজন মানুষ প্রেমিক-প্রেমিকা হয়ে ওঠার আগেই একে অপরের যত্ন নিত। ফোন ছিলো না। চাইলেও পুরোটা দিন কাউকে পাশে পাওয়া যেত না। মনের ভেতর যা যা চলছে, বা ঠিক এই মুহুর্তে যা যা বলা দরকার, সব তারা লিখে রাখত। কেউ চিঠি লিখত। কেউ চিরকুট বানাত। আবার কেউবা বলতে না পেরে মারা যেত…
… প্রেমিকার রাত জেগে লিখে যাওয়া একেকটা চিরকুট একসময় এই শহরের লাখো যুবকের জীবন বদলে দিয়েছে। সেই শহরেই আজ তিনশ রাতের গল্প দিয়েো টেনেটুনে একটা ক্লাসিকাল সিনেমা হয়না। হলেও বাহবা পায় না…
পুরি পেঁয়াজুর সাথে একটু বিটলবণ মাখানো সালাদ পেলেই একদা এই শহরে বেকার যুবকেরা ক্লান্তি ভুলে যেত। অভিধানে আজ আর ‘ভুলে থাকা’ বলে কিছু নেই। থাকলেও সেটা প্রথম প্রকাশনার সতেরোতম সংস্করণ…
… প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ আজ কতকিছু মেনে নেয়। জিদও করে না !
শহরের মানুষেরা এখন জিদ করতেও ভয় পায়। প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ সবকিছু করবে। তবুও প্রয়োজনবোধ বলে কিছু থাকা যাবেনা। এটাই একালের নিয়ম…
সীমাবদ্ধতার আড়ালে শহরবাসীর সব প্রয়োজনই যদি শেষ হয়ে যায়, তাহলে বেঁচে থাকার কি প্রয়োজন?
জীবনে সবই প্রয়োজন !