তখন আমি কোন এক সম্পর্কের জালে আবদ্ধ ছিলাম। ম্যাসেজিং এর বাইড়ে গুটি কয়েকবার ফোনে তার সাথে কথা বলা হত, তার বেশিরভাগই ছিলো সন্ধ্যার পর এলাকার রেল লাইনের উপরে। ২ টা কারনে সেখানে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলতাম। প্রথমত কেন যেন ময়লা রেললাইনটা আমার খুব ভাল লাগত, দ্বিতীয়ত রেল লাইনের উপরে দাড়ালে বিল্ডিং এর বাইড়ে বাসার ওয়াইফাই টা খুব ভাল কানেকশন পায়। যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতাম তার ঠিক উলটা পাশেই এক বুড়ি পাগল বসে থাকতো। শীত , বৃষ্টি সব সময় সে একই যায়গায় বসে থাকতো , সিগারেট আর চা খেত শুধু ।
আমার ফোনের কথা শেষ করার পরপরই সে ডাক দিয়ে বলত এই ভাই ১০ টাকা দে। কখনো দেইনি , টাকা পাইলেই সে সিগারেট খাবে। যখন সম্পর্কের টানাপোড়ন চলছিলো হঠাৎ করে একদিন স্বীদ্ধান্ত নিলাম সবকিছু ঠিক হলে পাগলটাকে সেই দশটাকা দিব যা সে প্রতিবার ফোন রাখার পর চাইতো । সম্পর্কটা টিকে নি , পাগলের কপালেও সে দশটাকা জোটেনি।
গুনে গুনে বেশ কিছু সময় চলে গেলো। রেল লাইনের সে যায়গায় আমি আর মোবাইল কানে নিয়ে দাড়াইনি , পাগলিটাও টাকা চায়নি, ওদিকে ঘুরেও তাকানো হয়নি আর।
আজ সকালে বৃদ্ধ পাগলটা মারা গেলো । উৎসুক কিছু মহিলা ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে , নিজেদের মধ্যেই কথা বলছে। লাশের পাশে বসে বিলাপ করে কান্নার চিরচেনা রুপটা এখানে দেখা যাচ্ছে না। কেন যেন মনটা খারাপ হয়ে আছে ।
একটা মানুষ…… সে জীবিত অবস্থায়ও বেওয়ারিশ ছিল মৃত অবস্থায়ও বেওয়ারিশ , সে তুলনায় আমরা কতটা ভাগ্যবান তাই না ?