ছোটবেলায় আমাদের অনেক কিছু ব্যালেন্সের মধ্যে ছিল। সপ্তাহে একদিন সবাই বাসায় থাকত। কম বেশি সব বাসাতেই মাংস রান্নার প্রচলন ছিল। আশেপাশের বাসাথেকে প্রেশার কুকারের হুইসেল এর প্রতিযোগিতা শুরু হতো যেন। ঘরের এক সদস্যের উপার্যনে পুরো পরিবার চলে গেছে। যদিও বলতে হবে তখন জীবনযাত্রার মান উন্নত ছিল না তত একটা।
দিন যেতে লাগলো। নামকা ওয়াস্তে আমারা দাবি করে বসলাম আমাদের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে। ড্রয়িং রুমের ২১-২৬ ইঞ্চি ডিস্প্লের টেলিভিশন টা সাড়ে ছয় ইঞ্চির মোবাইল ডিস্প্লেতে ভাগ হয়ে সবার রুমে রুমে ছড়িয়ে গেল। জীবনযাত্রার মান বাড়াতে গিয়ে আমরা একা হয়ে গেলাম। পুরি মোগ্লাই পরোটার বিকেলের নাস্তার যায়গায় আমাদের ভাললাগা শুরু করলো ইটালিয়ান পিৎজ্জা। সপ্তাহে একদিনের মাংস ভাত খাওয়ার রেওয়াজটা হুট করে স্বাভাবিক হয়ে গেল। কেউ মাসে একদিনও খেতে পায় না কারো মন চাইলেই খেতে পারে। বন্ধুদের নিয়ে মাসে একদিনের ভাল রেস্তোরায় খাওয়া বিলুপ্ত হতে বসেছে। সে যায়গায় স্থান করে নিচ্ছে সেলফ ট্রিট নামের নতুন ট্রেন্ড।
এখনো খেয়াল আছে রোজার খেজুরের কথা। দলা পাকানো খেজুর আসতো তখন। ইফতারের আগে পানি দিয়ে ভিজিয়ে সে খেজুর ছোটানো লাগতো। মরিয়ম-মাবরুম-আজওয়া এগুলা ছিল হজের খেজুর, কেউ হজে গেলে নিয়ে আসে। এখন হাটতে ঘুরতে , এসব খেজুর কিনে ফেলা যায়। মোবাইলে অর্ডার দিয়ে খাবার আনানো যায়, উন্নত সবকিছুর মধ্যে আমরাই রয়ে যাচ্ছি অনুন্নত। আমরা চলে যাচ্ছি ইম্ব্যালেন্সের মধ্যে……
আমি – আপনি – সবাই।